ফলো করুন
অভিযোগ

১১ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজের মাঝেই তানোর-বায়া সড়ক রূপ নিল 'মরণফাঁদে

ছবি: রিপোর্টার কর্তৃক সংগ্রহ

রাজশাহীর তানোর থেকে বায়া পর্যন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়কটি সংস্কার ও উন্নয়নকাজের মাঝেই বেহাল দশায় পরিণত হয়ে চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কাজের ধীরগতি, অপেশাদারিত্ব ও বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হওয়া বড় বড় খানাখন্দের কারণে সড়কটি এখন স্থানীয়দের কাছে এক আতঙ্কের নাম।



​সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো সড়ক কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায়। প্রতিদিন এই বিপজ্জনক পথ দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থী, পথচারী এবং যানবাহন চালকেরা।



​তানোর-বায়া সড়কের বিভিন্ন স্থানের পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। বৃষ্টির পানি জমে এসব গর্ত ছোটখাটো জলাশয়ে রূপ নেয়। এই পিচ্ছিল ও বিপজ্জনক সড়ক দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল করছে বাস, ট্রাক, সিএনজি ও অটোরিকশা।



​গত বৃহস্পতিবার দুপুরে বায়া এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী একটি বাস রাস্তার পাশের ড্রেনে উল্টে পড়ে। সৌভাগ্যক্রমে যাত্রীরা বড় ধরনের প্রাণহানি থেকে বেঁচে গেলেও সড়কটির ভয়াবহতার সাম্প্রতিকতম প্রমাণ এই দুর্ঘটনা। ইতিপূর্বে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বায়া এলাকায় কাদা-পানিতে ভরা সড়কে ধানগাছ রোপণ করে অভিনব প্রতিবাদও জানিয়েছেন।




​স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর অধীনে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে বাঘধাণী থেকে কাজিমবাজার পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার অংশের সংস্কারকাজ চালাচ্ছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘সৈকত এন্টারপ্রাইজ’।



​২০২৩ সালের ১৫ জুলাই কাজ শুরু হলেও নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে ড্রেন, কালভার্ট ও ব্রিজের কাজ শেষ করতে পারেনি তারা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ৬২ শতাংশ কাজ সম্পন্নের দাবি করলেও বাস্তবে সড়কের বড় অংশই স্রেফ চলাচলের অযোগ্য। বিশেষ করে বায়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তেঘর পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত অংশ আদৌ এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত কি না—তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র সংশয় তৈরি হয়েছে।



​অভিযোগ রয়েছে, হিমালয় কোল্ড স্টোরেজের দেওয়ালঘেঁষা ড্রেনের একটি অংশ দখল করে স্থানীয় প্রভাবশালীরা কাঠের ব্যবসা পরিচালনা করছেন। ফলে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে স্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে। পানি জমে থাকায় পিচ দ্রুত নষ্ট হচ্ছে। কালভার্টগুলো রাস্তার সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রশস্ত না করায় এ অংশগুলোতে নিয়মিত যানজট ও দুর্ঘটনা ঘটছে।



​উন্নয়ন কাজের নামে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দের পর সড়কের এমন কঙ্কালসার দশায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। তাঁরা অবিলম্বে প্রকল্পের কাজের স্বচ্ছতা, মেয়াদ ও বরাদ্দের তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশের জন্য এলজিইডির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি ড্রেন দখলমুক্ত করে কালভার্ট সম্প্রসারণ এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনার আগেই পুরো সড়কটি দ্রুত চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

আরও পড়ুন

এই প্রতিবেদনটি কেমন লাগলো?

মোট রিঅ্যাকশন:

মন্তব্য ()

সাইন-ইন
নাম ও ইমেইল প্রদান করা বাধ্যতামূলক

দ্রষ্টব্য: প্রতিটি মন্তব্য পর্যালোচনা করা হয়। অপ্রাসঙ্গিক ও আপত্তিকর মন্তব্য প্রকাশিত হয় না।